এশিয়ান গেমসে এবারও আরচারির নিশানা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। অনেক আশা আর পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জাপানে পা রেখেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ওকাজাকি চু সগো পার্কের রিকার্ভ ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের অধীনে টুর্নামেন্টে নামার আগে দলের লক্ষ্য বেশ উঁচুতে ছিল। দলগত ইভেন্টে মেডেলের জোরালো প্রত্যাশা থাকলেও সামান্য ব্যবধানে হেরে সে স্বপ্ন আগেই ভেঙে যায়। টাইব্রেকার কিংবা মোটে এক পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার বেদনা পুঞ্জীভূত হয়েছিল মনে। আর গতকাল ব্যক্তিগত রিকার্ভের লড়াইয়েও সেই হতাশার চিত্র বদলাল না। পুরুষ কিংবা নারী—কোনো বিভাগেই শেষ আটের টিকিট মিলল না কারও। আব্দুর রহমান আলিফ, শিমু আক্তার ও রামকৃষ্ণ সাহারা লড়াই চালিয়েও শেষ পর্যন্ত এশিয়া পরাশক্তিগুলোর হাই পারফর্মের কাছে টিকতে পারেননি।
তবে এই চরম হতাশার সাগরেও আশার এক ফালি আলো হয়ে উদ্ভাসিত হয়েছেন মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী তরুণী সায়মা সালাউদ্দিন। আন্তর্জাতিক এই মহাযজ্ঞে নিজের প্রথমবার অংশ নিয়েই তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে পরের ধাপে ফিলিপাইনের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সরাসরি প্রি-কোয়ার্টারে পৌঁছে যান এই কিশোরী। যদিও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ভারতের অনিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে, তবুও এত বড় মঞ্চে ১৪ বছর বয়সে তার এমন পরিপক্ব পারফরম্যান্স সবার নজর কেড়েছে। কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকও সায়মার এই প্রতিভায় মুগ্ধ। কোনো স্বজনপ্রীতি নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় ট্রায়াল ও জাতীয় টুর্নামেন্ট পেরিয়ে মূল স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া এই আরচারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখছেন জার্মান এই কোচ।
একসময়ের দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পদক এনে দেওয়ার অন্যতম বড় ভরসা ছিল এই রিকার্ভ আরচারি। রোমান সানার মতো বিশ্বমঞ্চে পদক জয়ী তারকাদের হাত ধরে পথ চলা এই ডিসিপ্লিনে এমন মলিন পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারত, চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার পরাশক্তিদের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে আমাদের আরচারদের আরও অনেকদূর এগোতে হবে।
পদক পাওয়ার খরা হয়তো এ যাত্রায় কাটল না, কিন্তু ১৪ বছরের সায়মার চমক দেখিয়ে দিল—বাংলাদেশের আরচারির ভবিষ্যৎ তীরটি এবার হয়তো ঠিক পথেই ছুটতে শুরু করেছে।
সান নিউজ/রাজীব
