ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো সৌদি আরব। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় নিজের জীবন সুরক্ষায় কড়া নজরদারিতে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী আঘাতের পর সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ও ব্রিটিশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান না করে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বাঙ্কার ও সুরক্ষিত প্রাসাদগুলোতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। বিশেষ এক নিরাপত্তারক্ষী দল তার সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। তবে এই গোপনীয়তার বিষয়ে সৌদি রাজপরিবার বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার এক মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
রাজধানীতে আক্রমণের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উল্টোদিকে সৌদি ভূখণ্ডে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সঠিক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ। দু’পক্ষের এমন মুখোমুখি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরণের আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কিং খালিদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ আঘাত
পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় যখন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালকে লক্ষ্য করে পর পর দু’দিন আক্রমণ চালানো হয়। এতে বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা হয় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। এর পরের দিনই আবারও একই স্থানে হামলা চালিয়ে এক বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজনকে হতাহত করা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একে ‘নৃশংস আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে তারা সৌদি আরবের বেশ কিছু কৌশলগত পয়েন্টে আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য এখন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও জ্বালানি তেল কেন্দ্রগুলো। হুতিদের পক্ষ থেকে আগেই এমন হামলা চালানো হবে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।
সান নিউজ / রাজীব
