‘জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম—এ রকম ফ্রেমে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দুই কবি শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদকে আলাদা করে দেখা বিপজ্জনক। নির্দিষ্ট কোনো ফ্রেমে একজন কবিকে বন্দী করলে আমরা তাঁকে নয়, নিজেদেরই সেই ফ্রেমে আটকে ফেলি। এভাবে কবির বিচার হয় না। এ রকম ফ্রেমের ভেতর থেকে আমাদের বের হয়ে আসা দরকার।’
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক এবং প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। সংস্কৃতি বাংলা নামের একটি সংগঠনের বর্ষশুরু আয়োজন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানে তিনি ‘জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম: শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ’ শিরোনামে একক বক্তৃতা দেন।
বক্তৃতায় সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘এখন যে আমরা ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ—এই দুই ফ্রেমে আলাদা করে যে শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদকে দেখি, এগুলো পরের ঘটনা। ১৯৫০–এর দশকে কবি হিসেবে উন্মেষের পর সাংস্কৃতিক ভাবাদর্শের দিক থেকে তাঁরা এক ছিলেন। সেটি জাতীয়তাবাদের যুগ। দেশে দেশে উপনিবেশের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম চলছে। পূর্ববঙ্গও এর ব্যতিক্রম নয়। বৃহত্তর অর্থে এই দুই কবিও তখন “জাতীয়তাবাদী” সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ করছেন। আমরা এটা পছন্দ বা অপছন্দ করতে পারি, পরিচয়বাদী রাজনীতির সমালোচনা করার মতো নানা তাত্ত্বিক অস্ত্র এখন আমাদের কাছে আছে। কিন্তু এটাই ইতিহাসের বাস্তবতা। আমরা ইতিহাস বদলাতে পারি না।’
