ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদীয়মান সংগীতশিল্পী আবু জাহিদ অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরার করা যৌন নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করার অভিযোগে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতিও চেয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার শেখার সুবাদে আবু জাহিদ অন্তু ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর গত ৩১ মে গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন অরা। মামলার অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ২ মে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে তাকে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন ও মারধর করেন অন্তু।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম রাশিদুর রহমানের তদন্তে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অরা অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যেতে সম্মত হন অরা।
তদন্তে জানা যায়, গত ২ মে সকালে অন্তুর বাসায় গেলেও প্রথমে তার দেখা পাননি অরা। পরে বিকেলে দুজনের সাক্ষাৎ হয়। একপর্যায়ে বাসার অফিসকক্ষে বসে তারা কথাবার্তা বলেন। কিছু সময় পর অন্তু নিজের মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে চলে যান। এ সময় তার ফোনে একটি কল এলে অরা সেটি রিসিভ করেন এবং ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তির কাছে নিজেকে অন্তুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে অন্তু উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেই অরার কাছে এর কারণ জানতে চান। এতে অপমানিত বোধ করেন অরা। তদন্ত কর্মকর্তার ধারণা, পরবর্তী সময়ে এই ক্ষোভ থেকেই অন্তুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি।
মামলার তদন্তে পুলিশ বাদী ও বিবাদীর কল রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে। তবে এসব তথ্য-উপাত্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অরার শারীরিক পরীক্ষা করা হলেও চিকিৎসক কোনো আঘাত বা নির্যাতনের দৃশ্যমান আলামত পাননি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ৩১ জুলাই জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে অন্তুকে অব্যাহতির সুপারিশের পাশাপাশি বাদী অরার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, মামলার কারণে নিজের সামাজিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী আবু জাহিদ অন্তু। তার প্রশ্ন, তদন্তে নির্দোষ হিসেবে উঠে আসার পরও যে সামাজিক হয়রানি ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তার দায়ভার কে নেবে?
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।
সান নিউজ/ রাব্বি
