মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলার সময় গ্রিক অর্থোডক্স গির্জার ওপর এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালায় বন্দুকধারীরা।
সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশটিতে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা অত্যন্ত বিরল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার শোকাহত মানুষের সমাগমের মধ্যে গাড়ি নিয়ে এসে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। প্রথমে সাতজনের প্রাণহানির কথা জানানো হলেও পরে সংশোধন করে নিহতের সংখ্যা ছয়জন বলে নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। হতাহতদের অধিকাংশেরই বয়স পঞ্চাশ থেকে সত্তর বছরের কোঠায়।
জর্ডানের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে সাধারণ পোশাকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তাদের দু’জনের হাতে পিস্তল এবং একজনের কাছে বড় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গুলিবর্ষণ করতে করতে তারা গির্জার ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে একটানা গুলি চালিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। ওই সময় গির্জা চত্বরে প্রায় দেড় থেকে দুইশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে দেশটির প্রশাসন। সরকারি যোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ আল-মুমানি জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ধারণা, এই নাশকতার পেছনে উগ্রপন্থীদের হাত রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৬ সালে কারাক অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা কেন্দ্র ও পুলিশের ওপর বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
জর্ডানের জনসংখ্যার মাত্র দুই থেকে তিন শতাংশ খ্রিস্টান হলেও কারাক এলাকায় তাদের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে। এমন একটি শান্ত ও সহাবস্থানের দেশে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন একে জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা দেশ নেই। এই ধরনের হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করে সমাজে বিভাজন তৈরি করা।
সান নিউজ / রাজীব
