আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি মিশ্র অনুভুতিতে পার করেছে বাংলাদেশ দল। উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ার পর ব্যাটিং ধসের মুখে পড়েছিল সফরকারীরা। তবে দিনের শেষভাগে মিডল অর্ডারের প্রতিরোধে তিনশ রান পার করে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার ম্যাচের প্রথম দিন শেষে ৮৪ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
শক্তিশালী সূচনা ও তানজিদের মারমুখী ব্যাটিং
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন মূল্যবান ১২৪ রান।
বিশেষ করে মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন তানজিদ। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৬টি ছক্কার মার। সেঞ্চুরির পথে এগোলেও ইসমত আলমের বলে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অন্যপ্রান্তে স্বভাবসুলভ ধৈর্যশীল ব্যাটিং বজায় রেখে ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে তিনিও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ১১১ বলে ৭টি চারে ৬৭ রান করে মোহাম্মদ সালিমের বলে জিয়াউর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সাদমান। এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
এই জুটিতে আসে আরও ৬০ রান, যা দলের রানকে দুইশ পার করতে সাহায্য করে। তবে মাঝে রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। ৭০ বলে ৩৯ রান করা মুমিনুল ইয়ামিন আহমদজাইয়ের শিকার হয়ে ফেরার পর দ্রুতই বড় পতনের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্রুত উইকেট পতনে বিপাকে বাংলাদেশ
মুমিনুলের বিদায়ের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অভিজ্ঞ মুশফিক রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। স্কোরবোর্ডে দুইশ রান পার হওয়ার পরপরই মাত্র চার রানের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট হারিয়ে গভীর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ দল।
শেষের প্রতিরোধ ও দিনের সমাপ্তি
দলের এমন সংকটময় মুহূর্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। মিরাজ ২৪ রান করে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় লড়াই চালিয়ে যান লিটন।
৮৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের আরেকটি অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সালিমের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। লিটনের বিদায়ের পর হাসান মাহমুদও সাফির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
স্কোরবোর্ডে ৩১৭ ভদ্রস্থ দেখালেও এমন শুরুর পর ৩৫০ ছাড়ানোর সুযোগ ছিল, তাই এটাকে ভালো সংগ্রহ বলা যায়, কিন্তু আদর্শ নয়। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাকি দুই উইকেট থেকে কত রান যোগ হয়, তার ওপরই ইনিংসের আসল মূল্যায়ন নির্ভর করছে।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় নাঈম হাসান ১১ এবং তাইজুল ইসলাম ৪ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আফগানিস্তানের বোলিং লাইনআপের পক্ষে মোহাম্মদ সালিম ৩টি উইকেট শিকার করে সফরকারী শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দিয়েছেন। শনিবার দ্বিতীয় দিনের সকালে অপরাজিত এই দুই ব্যাটারের জুটি থেকে স্কোরবোর্ড আরও সমৃদ্ধ করতে চাইবে বাংলাদেশ।
সান নিউজ / রাজীব
