ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
উয়েফা নেশন্স লিগের প্রথম রাউন্ডে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তুরস্ককে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ের ফলে ৩২ বছর পর ফ্রান্সের কোনো কোচ হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই জয় পেলেন জিদান।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে সর্বশেষ অভিষেক ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন আইমে জ্যাকে। ১৯৯৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নেপলসে ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন জিদানের সাবেক সতীর্থ ইউরি জর্কেফ।
জ্যাকে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিদানের আগমন পর্যন্ত ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন আরও পাঁচজন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপে’র তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউই অভিষেক ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে পারেননি।
১৯৯৮ সালে রজার লেমেরের অধীনে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ফ্রান্স। ২০০২ সালে জ্যাক সান্তিনির অভিষেকেও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দলটি। ২০০৪ সালে রেমন্ড ডোমেনেখের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনিয়ার সঙ্গে একই ব্যবধানে ড্র করে ফরাসিরা।
এরপর ২০১০ সালে লরাঁ ব্লাঁর অধীনে অভিষেক ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারে ফ্রান্স। ২০১২ সালে দিদিয়ের দেশমের অভিষেকও জয় দিয়ে হয়নি; উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল ফরাসিরা।
জিদানের অভিষেকের সঙ্গে রয়েছে আরেকটি বিশেষ ঐতিহাসিক যোগসূত্র। ১৯৯৪ সালের আগস্টে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ফ্রান্সের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে ফ্রান্সের কোচ ছিলেন আইমে জ্যাকে—যিনি এর আগে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে অভিষেক ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন।
নিজের অভিষেক নিয়ে ম্যাচ শেষে আবেগের কথাও জানিয়েছেন জিদান। পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলা ও মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
টিএফ১-কে জিদান বলেন, “অনেক আবেগ কাজ করছে। এটি প্রথম ম্যাচ, আর জয় দিয়ে শুরু করা কখনোই সহজ নয়, বিশেষ করে তুরস্কের মাঠে। আমার মনে হয়, আমাদের যে ধরনের ম্যাচ খেলা দরকার ছিল, আমরা সেটাই খেলেছি। আমরা প্রতিপক্ষকে খেলতে দিইনি।”
তিনি আরও বলেন, “বেশ উঁচু জায়গা থেকে তাদের প্রেস করেছি এবং বল পুনরুদ্ধারের সময় ছিলাম খুবই আগ্রাসী। বল পায়ে থাকলে কী করতে হবে, সেটিও আমরা ঠিকভাবে করতে পেরেছি।”
মাত্র সাড়ে তিনটি অনুশীলন সেশন একসঙ্গে করার পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জিদান। তিনি বলেন, “আমরা মাত্র সাড়ে তিনটি অনুশীলন সেশন একসঙ্গে করেছি। তারপরও আমি অনেক ইতিবাচক দিক দেখেছি। এটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। খেলোয়াড়রা যা করেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আর এই অভিষেকটা এভাবে হওয়ায় আমি খুশি।”
সান নিউজ/ রাব্বি
