জাতীয় ক্রীড়া আইন মেনে চলার বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বাকি সব জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল, বিসিসিআই সেভাবে চলে না। উল্টো সরকার তাদের কাছ থেকে কর বাবদ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পায়—এই যুক্তি দেখিয়ে সরকারের আইন পুরোপুরি মানতে নারাজ ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) পর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া সংবাদমাধ্যমকে বোর্ডের এই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিয়মিত কর দিই। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা কর দেয় বিসিসিআই। বার্ষিক সাধারণ সভায় আমরা এই তথ্য জানিয়েছি। এই তথ্য প্রকাশ করার পর উপস্থিত প্রতিনিধিরা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’’
ক্রীড়া আইন প্রসঙ্গে সচিব আরও স্পষ্ট করেন, আইনটির বিষয়ে বোর্ডের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে প্রয়োজনীয় কাজ ও কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে। সেই কাজগুলো হওয়ার পর বিসিসিআইকে যদি আইনের আওতায় আনা হয়, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। সেই বিজ্ঞপ্তি হাতে পাওয়ার পরই কেবল বোর্ড পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এবং নতুন আইন অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। আগামী ২৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, সেদিন আদালতেও বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিসিআই যেহেতু নিজেদের সম্পূর্ণ স্বশাসিত একটি সংস্থা হিসেবে পরিচালনা করে এবং সরকারি কোনো অনুদানের ওপর নির্ভর না করে উল্টো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয়, তাই অন্য সাধারণ ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে নিজেদের এক কাতারে দাঁড় করাতে নারাজ তারা। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আইনি স্বীকৃতি না মিললে বর্তমান নিয়মে এই আইন মানা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই বোর্ডের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার বাঙলা/রাজীব
