নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের লাখপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চরমান্দালিয়া গ্রামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিয়ের আয়োজনের সত্যতা যাচাই করেন এবং কিশোরীর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং এর ফলে একজন কিশোরীর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এসব বিষয় পরিবারকে বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়।
পরে কিশোরীর মা নিজের ভুল স্বীকার করে মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনোভাবেই বিয়ে দেবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়।
কিশোরীর মা বলেন, “আমরা ভুল করে ফেলেছি। এজন্য আমরা অনুতপ্ত। মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেব না। আমরা তার পড়াশোনা চালিয়ে যাব।”
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে কিশোরীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এ ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি কিশোরীরা অকাল বিয়ের পরিবর্তে পড়াশোনা চালিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
