সাভারের দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গাছ কাটা ও নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কলেজের দুটি কাঁঠালগাছ কাটার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন জানান, পুরো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং নিচু জায়গায় বালু ভরাটসহ কাজ শেষ করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। বাকি টাকা স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ার কথা বলেছেন।
তবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে এখনো কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, পিআইও কার্যালয়ের চার লাখ টাকার বরাদ্দের কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি কাজের জন্য টেন্ডার দেওয়া হবে। নির্মাণকাজের একটি অংশ হিসেবে কলেজের গেট স্থানীয় কাবেল মেম্বার বিনা পারিশ্রমিকে করার জন্য চেয়ে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেছেন, টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শওকত হোসেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
কলেজের দুটি কাঁঠালগাছ কাটার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ওঠে। অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, গাছ দুটি মরা ছিল এবং গাছ কাটার জন্য ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি ছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে গাছ কাটায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।’ টেন্ডার ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, কলেজের জমি থেকে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকা ভাড়া আসে। ওই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব তাঁদের জানা নেই। কলেজের পুরোনো ও স্মৃতিবিজড়িত গাছ কাটার বিষয়েও তাঁদের অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
আইনি নোটিশের বিষয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমজাদ নামে কাউকে আমি চিনি না। তবে উকিল নোটিশ এলে আমি তার জবাব দেব।’
সরকারি বরাদ্দে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান
