আন্তঃজাতীয় বিয়েকে উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ভারত সরকার। বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। যোগ্য দম্পতিরা এই প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
ভারতের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘আম্বেদকর সামাজিক সংহতি প্রকল্প’-এর মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হয়। শুরুতে এ প্রকল্পে অনুদানের পরিমাণ ছিল আড়াই লাখ টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, অনুদানের একটি অংশ নবদম্পতির যৌথ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা দেওয়া হয়। বাকি অর্থ নির্দিষ্ট মেয়াদের আমানত হিসেবে রাখা হয়। ফলে বিয়ের পরপরই পুরো ৫ লাখ টাকা হাতে পাওয়ার সুযোগ নেই; অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সঞ্চয় হিসেবে রাখা হয়।
তবে চাইলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত।
যেসব শর্ত মানতে হবে
আন্তঃজাতীয় বিয়ে হতে হবে:
দম্পতির একজনকে সরকার স্বীকৃত সংরক্ষিত বা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের হতে হবে। অন্যজনকে হতে হবে সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণির।
বিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে:
শুধু সামাজিক বা ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করলেই হবে না। বিয়েটি অবশ্যই ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অথবা বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হতে হবে।
প্রথম বিয়ে হতে হবে:
স্বামী ও স্ত্রী দুজনেরই এটি প্রথম বিয়ে হতে হবে। এর আগে কারও বিয়ে হয়ে থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এক বছরের মধ্যে আবেদন:
বিয়ের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিয়ের এক বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
অর্থাৎ, শুধু আন্তঃজাতীয় বিয়ে করলেই ৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
সান নিউজ/ জামান
