বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ এবং চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গবাদিপশুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, ফকিরহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি গরু চুরির মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর প্রথমে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে ফকিরহাট এলাকার শিউলি ফিলিং স্টেশন থেকে গরু বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। এরপর আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।
সেখানে একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই বাড়ির মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ গরু চোরচক্রের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গবাদিপশু চুরি করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গরু চুরি ও অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমার বাঙলা/ জামান
