বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ—ফুটবলের প্রায় সব বড় মঞ্চেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য; রেকর্ড আটবার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন শীর্ষে তার নাম।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বের প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি। ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছেন বহুবার। তবে এত বছরের পথচলায় একটি বড় দলের বিপক্ষে খেলা হয়নি তার—ইংল্যান্ড।
আগামীকাল আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড শেষ চারে ওঠার পর নিশ্চিত হয়েছে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই। ৩৯ বছর বয়সে প্রথমবার ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি।
অবশ্য ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ প্রতিপক্ষদের সঙ্গে তার পরিচয় বেশ পুরোনো। বার্সেলোনার হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও আর্সেনালের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। ২০১০ চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে তার চার গোলের সেই ম্যাচ এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
এটি মূল লেখার তথ্য ঠিক রেখে আরও মসৃণ ও পাঠক টানার মতো করে সাজানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচ খেলে ২৭ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট। কিন্তু ক্লাব পর্যায়ে ইংলিশদের বিপক্ষে এমন সাফল্য থাকলেও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে নিজেকে পরখই করা হয়নি তাঁর।
এর পেছনে আছে কাকতালীয় ঘটনা। আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। এর তিন মাস আগেই হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা পড়ে মেসির। তবে অভিষেক ম্যাচেই লাল কার্ড দেখায় স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা হয়নি তাঁর।
তখন অবশ্য তাঁর না খেলাটা এমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল না। কিন্তু পরের ২১ বছরে কোনো মঞ্চেই আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের আর দেখা না হওয়াতেই মেসির ‘ইংল্যান্ড–মিসিং’ এখন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচ এমনিতেই বিশেষ কিছু। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের জয়—দুই দেশের দ্বৈরথে ইতিহাসের রং বরাবরই একটু গাঢ়।
মেসির জন্মই ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল তাই নিজ চোখে দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। কিন্তু আর্জেন্টিনায় বড় হতে হতে সেই ম্যাচের গল্প, ভিডিও আর ছবি তাঁর ফুটবল–স্মৃতিরই অংশ হয়ে উঠেছে। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে সে কথাই জানাতে গিয়ে মেসির ভাষ্য, ‘৮৬’ ম্যাচের যত স্মৃতি আমার আছে, সবই ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ বারবার সেই ম্যাচগুলো দেখে, মনে করে।’
‘প্রতিপক্ষ যে–ই হোক, তবে আমাদের এই দল নিজের ফুটবলটাই খেলে’ বললেও মেসির কাছে এই ম্যাচের বিশেষত্ব অবশ্য অন্য জায়গায়, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ। তারা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি, আর পরাশক্তিদের বিপক্ষে ম্যাচ সব সময়ই আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে এটাই হবে তাদের বিপক্ষে আমার প্রথম ম্যাচ। ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সবার বিপক্ষেই খেলেছি। এই কারণেও ম্যাচটি আমার কাছে বিশেষ।’
এই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সও বিশেষই। এখন পর্যন্ত আট গোল করেছেন, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু, এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল আর জর্ডান, কেপভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে করেছেন একটি করে গোল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
এবার মেসির সামনে শুধু আরেকটি সেমিফাইনালই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার নিজের নাম লেখানোর উপলক্ষও।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
