প্রচণ্ড রোদের দাপটে রাজধানী ঢাকা যেন থমকে গেছে। সাধারণ দিনে যানজট আর ব্যস্ততায় মুখর থাকা সড়কগুলো শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দেখা গেছে অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। দক্ষিণখান থেকে কুড়িল, উত্তরা, খিলক্ষেত, কাওলা ও বিমানবন্দর সড়ক—সবখানেই মানুষের চলাচল ছিল ন্যূনতম।
তীব্র গরমের কারণে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি দিনমজুর ও রিকশাচালকদের জীবনে। যাত্রী না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভাড়া পাচ্ছেন না তারা।
যাত্রী নেই, আয়ও নেই—চাপে রিকশাচালকরা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, রাস্তায় রিকশা থাকলেও যাত্রী নেই। দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় রিকশাচালক শান্ত জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আয় হয়েছে খুবই সামান্য। তার ভাষায়, “রোদের কারণে মানুষ বের হয়নি, তাই ভাড়াও পাইনি। এত কম আয় আগে কখনো দেখিনি।”
একই অবস্থা বিশ্বরোড-নীলা মার্কেট এলাকায়। তরুণ রিকশাচালক হৃদয় জানান, গরমে তার রিকশার চাকা পাংচার হয়ে যাওয়ায় আয় আরও কমে গেছে। দৈনিক জমার টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
শূন্য রাস্তায় হতাশ শ্রমজীবীরা
সরেজমিনে দেখা যায়, আশকোনা, কাওলা, খিলক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় বাসস্ট্যান্ড ও সড়কগুলোতে যাত্রীসংখ্যা অনেক কম। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি প্রায় নেই। অনেকে গাছের ছায়ায় বা ছাতা টানিয়ে অপেক্ষা করছেন।
রিকশাচালকরা জানান, দুপুরের সময় রোদের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তারা দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়াতে পারেননি। বাধ্য হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
গ্যারেজের জমা আর সংসারের চাপ
অধিকাংশ রিকশাচালক ভাড়া রিকশা চালান। প্রতিদিন নির্দিষ্ট জমা গ্যারেজ মালিককে দিতে হয়। আয় কম হলেও সেই টাকার কোনো ছাড় নেই।
ফলে অনেকেই দিনের শেষে জমার টাকা তুলতে না পেরে ধার-দেনা করছেন বা আগের সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। এতে সপ্তাহজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতি
তীব্র গরমে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। চায়ের দোকান, ফল বিক্রেতা, শরবত ও ভাজাপোড়ার দোকানগুলোতে ক্রেতা খুবই কম। অনেক পচনশীল পণ্য বিক্রি না হওয়ায় সরাসরি লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আবহাওয়ার তথ্য
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩–৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আংশিক মেঘলা আকাশ ও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চিকিৎসকদের সতর্কতা
চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘসময় রোদে কাজ করলে হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়ায় বিশ্রাম এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শেষ কথা
রাজধানীর এই নিস্তব্ধতা শুধু আবহাওয়ার প্রভাব নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। রোদ যতই তীব্র হচ্ছে, ততই কমছে আয়—আর বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
