নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৮ মাস অতিবাহিত হলেও বিচারের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল বিলম্বিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার (১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার সময় বাড়ানোর আবেদন করেন।হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের কারণ ব্যখ্যা করে আরো ৩০ দিন সময় চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।শুনানি শেষে ৩০ কার্য দিবস বাড়িয়ে দেন আদালত। এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫০ বার সময় নেওয়া হলো।
আদালত সুত্রে জানা গেছে,মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত চেয়ে স্বাক্ষের স্মারকলিপি দাখিল করা হয়েছে।স্বারকলিপির আদেশ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি প্রদীপ ঘোষ জানান,বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আরো ৩০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেন,যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।
ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পরিবারকে রক্ষা করার জন্য এগার বছর নৃশংস ও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও মামলার বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি।বর্তমান সরকারের আমলে এই মামলার কতটুকু কি হবে তা বুঝা যাচ্ছে না।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ শহরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী।৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন চারারগোপ খাল থেকে ত্বকীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখিত ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর,ইউসুফ হোসেন সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১।
আদালতে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণ ও হত্যার কথা বের হয়ে আসে।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশেই আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
