বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২০টি উন্নতমানের ব্রডগেজ রেলকোচ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসেই এই কোচগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে বড় প্রকল্প
২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রপ্তানি সংস্থা রাইটস (RITES) একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, মোট ২০০টি রেলকোচ বাংলাদেশে রপ্তানি করবে ভারত।
এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে—
- ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ
- ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ
- ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ
চুক্তি অনুযায়ী পুরো প্রকল্পের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯১৫ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (EIB) অর্থায়নে পরিশোধ করবে।
প্রথম চালান জুলাই মাসেই
ভারতীয় রেল দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ২০টি ব্রডগেজ কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এগুলো জুলাই মাসের যেকোনো সময় বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
তার ভাষায়,
“প্রথম চালানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন শুধু নির্ধারিত সময়ে কোচগুলো পাঠানোর অপেক্ষা।”
তিনি আরও জানান, পরবর্তী চালানগুলো আগামী ৩৬ মাসে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কাপুরথালা কারখানায় তৈরি আধুনিক কোচ
এই ২০টি কোচ তৈরি করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি-তে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এসব কোচ ভবিষ্যতেও একই কারখানায় ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন করা হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি কোচের জন্য ১৪ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেবে।
বাংলাদেশ-ভারত রেল সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি
এই প্রকল্পকে দুই দেশের মধ্যে রেল খাতে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের রেলপথের আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
