দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুটি খালের খননকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ৩০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে উপজেলার তৈমাতাই ও পিলাক খালে মোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খনন কর্মসূচী শুরু হয়। এবং ২০ মে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, খাল খননের ফলে তাদের পানির সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে সেচ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
খালখননের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বিবেচনায় খালগুলোকে বড়, মাঝারি ও ছোট —এই তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
তৈমাতাই খাল: ৪.১ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা থাকলেও একই বরাদ্দে (১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) ৬.৮ কিলোমিটার এবং পিলাক খাল: ৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬.২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এতে দুই খালে মোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তৈমাতাই খালে ৩৫৭ জন এবং পিলাক খালে ৪১৬ জনসহ মোট ৭৭৩ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে খালের দুই তীরের তৈমাতাই খালে ২ হাজার ৬৪১টি – পিলাক খালে ২ হাজার ৪৫০টি বনজ ফলজ, এবং ঔষধি গাছের চারা রক্ষায় খাঁচাবেষ্টনীসহ রোপণ করা হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে তৈমাতাই খালে ২১০ মিটার পাইপ ড্রেন, দুটি ঘাটলা এবং পিলাক খালে ৪৫০ মিটার পিভিসি পাইপলাইন ও দুটি বক্স কালভার্টও স্থাপন করা হয়েছে।
গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, সরকার প্রদত্ত বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষিজমিতে সেচ সুবিধাসহ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচী প্রকল্পের কাজ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ায় স্থানীয় জনগণ এর সুফল ভোগ করবেন। কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু খাল পুনঃখনন নয়, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি নিষ্কাশন,শুষ্ক মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সেচ সুবিধাসহ পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সান নিউজ/ জামান
