মুন্সীগঞ্জে আলোচিত অপহরণ ও ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীসহ আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার মধ্য রাত দেড়টার দিকে রাজধানী ঢাকাসহ পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মুনিয়া আক্তার সাফা ওরফে সাফামনি (২০) এবং নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা মো. নুর হাছান নাঈম (২৩)। পুলিশ জানায়, নাঈম বর্তমানে ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় বসবাস করতেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ধারাবাহিক তদন্ত এবং আন্তঃথানা সমন্বয়ের মাধ্যমে পল্টন থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ঘাসিপুকুর গ্রামের ইনছান বেপারী (২২) এর সাবেক স্ত্রী ছিলেন সাফামনি। এবং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ওই নারী। তাঁর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে কৌশলে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলায় এর আগে একই ঘটনায় গত ২৮ জুন আরও তিনজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে মামলার পাঁচজন এজাহারভুক্ত আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সদর থানায় ইন্সপেক্টর তদন্ত সজিব দে বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা জিডির প্রেক্ষিতে যুবকের উদ্ধার করা হয়। পরে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, “দ্রুত পদক্ষেপ, কার্যকর তদন্ত ও পেশাদারিত্বের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার পাঁচজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জেলা পুলিশ যে-কোনো অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
