বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা ম্যাডোনার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা স্টুডিও ইউনিভার্সালের সঙ্গে বাজেট ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং ম্যাডোনা।
নিজের জীবন নিয়েই বড় পর্দার স্বপ্ন ছিল ম্যাডোনার
ম্যাডোনা দীর্ঘদিন ধরেই তার রঙিন ও সংগ্রামময় জীবন নিয়ে একটি বড় পরিসরের বায়োপিক নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি নিজেই এই প্রজেক্টটি তদারকি করছিলেন এবং পরিচালনার দায়িত্বও নেওয়ার কথা ছিল।
তার মতে, তার জীবনের গল্প এতটাই বিস্তৃত ও ঘটনাবহুল যে এটি পর্দায় তুলে ধরতে বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল।
ইউনিভার্সালের সঙ্গে বাজেট নিয়ে টানাপোড়েন
এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা জানান, মূল সমস্যা তৈরি হয় বাজেট নিয়ে। তার দাবি, তার জীবনের বিস্তৃত অধ্যায়গুলো তুলে ধরতে বড় বাজেট অপরিহার্য ছিল, কিন্তু স্টুডিও সেই খরচে রাজি হয়নি।
খরচ কমাতে তিনি শুটিং লোকেশন পরিবর্তন করে সার্বিয়ায় নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব স্টুডিও কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।
সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মতভেদ
ম্যাডোনার অভিযোগ অনুযায়ী, স্টুডিও তার পরিকল্পনার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারেনি। এমনকি তার ধারণাগুলো নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল।
এর ফলে প্রকল্পটি ধীরে ধীরে অচলাবস্থায় পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
দীর্ঘদিনের সিনেমা পরিকল্পনার ইতিহাস
২০২০ সালে প্রথম এই বায়োপিকের ঘোষণা আসে। জনপ্রিয় লেখক ডায়াবলো কোডির লেখা চিত্রনাট্যে ম্যাডোনা নিজেই এটি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এর আগে ইউনিভার্সাল স্টুডিও ২০১৭ সালে তার প্রাথমিক ক্যারিয়ার নিয়ে “ব্লন্ড অ্যাম্বিশন” নামে একটি সিনেমার স্বত্ব কিনেছিল, যা নিয়ে ম্যাডোনা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন।
কাস্টিং ও সিরিজ পরিকল্পনাও থেমে যায়
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে অডিশনের মাধ্যমে অভিনেত্রী জুলিয়া গার্নারকে প্রধান চরিত্রের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পুরো প্রকল্পই স্থগিত হয়ে যায়।
এছাড়া নেটফ্লিক্সের একটি সিরিজ নির্মাণের প্রস্তাব এলেও আইনি ও কপিরাইট জটিলতায় সেটিও এগোয়নি বলে জানান ম্যাডোনা।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় আগের অভিজ্ঞতা মিশ্র
পরিচালক হিসেবে ম্যাডোনার পূর্ববর্তী কাজগুলো সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। যদিও অভিনেত্রী হিসেবে তিনি ‘ইভিটা’, ‘ডিক ট্রেসি’ ও ‘ডেসপারেটলি সিকিং সুসান’-এর মতো চলচ্চিত্রে প্রশংসিত হয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত থেমে গেল এক বড় স্বপ্ন
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ও সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ—এই দুই দ্বন্দ্বের কারণেই ম্যাডোনার বায়োপিক প্রকল্প থেমে গেছে। তবে ভবিষ্যতে এটি আবারও নতুনভাবে শুরু হতে পারে বলেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সান নিউজ/ কেএনআই
