সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেন দুর্ব্যবহার না হয়, এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
বর্তমানে আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় এসএসএফ-কে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল ও জনগণের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে এসএসএফ-কে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত অত্যাধুনিক ‘ফায়ারিং রেঞ্জ’-এর উদ্বোধন ও এর মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই ফায়ারিং রেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ২০০২ সালের পর এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কেবল কার্যপদ্ধতির নীতিমালা নয়, বরং সদস্যদের আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। তিনি ‘রেড বুক’-এর নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণের পাশাপাশি পরিস্থিতিভেদে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি এসএসএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেন কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার না হয়, সেদিকে যেন প্রতিটি সদস্য সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এসএসএফ তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
সান নিউজ/ জামান
