পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি পৃথক অর্থনৈতিক সহায়তা চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ, শিল্প খাত পুনরুজ্জীবন এবং পৌর সুবিধা সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই তহবিলে জমা থাকবে ক্ষতিপূরণের অর্থ, যার অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ অংশ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু গবেষণার আড়ালে ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বারবার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
এই বিরোধের জেরে বছরের পর বছর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়ে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কয়েক দফা সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পর বর্তমানে উভয় পক্ষ নতুন একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই সময়ের মধ্যেই শান্তি চুক্তি এবং ক্ষতিপূরণ তহবিলের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালীও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে অবরোধ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
এছাড়া ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মতে, এই মজুত ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা দেয়, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেয় এবং ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরে সম্মত হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ তহবিল ও অর্থনৈতিক সহায়তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
