অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা পাওয়া যাবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, সে সময় তিনি কারাগারে ছিলেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। কারাগারে আটক ব্যক্তিদের কাছে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। তবে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত কারাগারে পৌঁছে গেলে সেখানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার তাকে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেন। পরে তিনি বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। দীর্ঘদিন জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার অভাব অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের এসব প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে।
আমির খসরু বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’—এই দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। আর অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শীতলপাটি ও মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল। ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’—মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক ও প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
সান নিউজ/ হুমায়রা
