কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ভৈষেরকুটি এলাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো, কাঠের ব্রিজ কিংবা ছোট ডিঙ্গি নৌকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈষেরকুটি গ্রামের গিড়াই নদীর ওপর নির্মিত সড়কটি প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী পাঁচ গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কয়েক দফা বাঁশের সাঁকো ও কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। তবে বর্তমানে কাঠের ব্রিজটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ছোট একটি ডিঙ্গি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ পারাপার করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশক ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আগে এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বলেন, “চলতি অর্থবছরেই ওই স্থানে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।”
এলাকাবাসী দ্রুত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
