দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা এখনো বেড়েই চলেছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ নিয়ে গত ৫২ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৪। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর ৫৬টি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আটটা থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২ শিশু চট্টগ্রাম বিভাগের, ২ রাজশাহীর। এ ছাড়া সিলেট, খুলনা ও বরিশালে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৪টি শিশু। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩টি শিশুর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮২টি শিশু সিলেট বিভাগের আর ১২২টি ঢাকা বিভাগের। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৫৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে।
এদিকে, সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়েছে, হাম-রুবেলা, ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই নতুন চালান এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান সরকার এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছায়। ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন এসেছে।
এদিকে, দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগির কভার করে ফেলবো। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাননিউজ/আরএ
