হংকংয়ের মিশন রোড গ্রাউন্ডে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ক্রিকেটবিশ্ব। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আবু হায়দার রনির তাণ্ডবে ঝড়ো সংগ্রহ গড়েও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় শক্তিশালী ভারত, আর এই হারের মাধ্যমেই টুর্নামেন্ট থেকে টাইগারদের বিদায় নিশ্চিত হলো চরম হতাশা নিয়ে।
রনির ঝড়ো ব্যাটেও মিলল না স্বস্তি :
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে-র উত্তেজনাপূর্ণ এই ফরম্যাটে ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে ডাগআউটের পথ ধরে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। স্কোরবোর্ডে দলের এমন করুণ দশা যখন স্পষ্ট, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি।
তার ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসে এক বিধ্বংসী ও স্মরণীয় ইনিংস। প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ১৮ বলে অপরাজিত ৬২ রানের এক অনবদ্য ঝড় তোলেন তিনি। এই মহাকাব্যিক ইনিংসে তিনি হাঁকান ৮টি প্রলয়ঙ্করী ছক্কা ও ৩টি চার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা—হাবিবুর রহমান সোহান ৬ বলে উপহার দেন মূল্যবান ১৮ রান এবং সাব্বির রহমান ৪ বলে দ্রুত যোগ করেন ১৩ রান।
নির্ধারিত ৬ ওভারের খেলা শেষে বাংলাদেশ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১১৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাংলাদেশি ব্যাটারদের সবচেয়ে বেশি ভোগান ভারতের বোলার ক্রুনাল পান্ডিয়া। ২ ওভারে ২৫ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যা ইনিংসে বাংলাদেশের গতি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল।
ভারতীয় ঝড় ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা :
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে ভারত। ওপেনার শশাঙ্ক সিং ও রাহুল ত্রিপাঠির ব্যাট থেকে আসে একের পর এক চার-ছক্কার ফুলঝুরি। মাত্র ১৫ বলে বিস্ফোরক ৫০ রান পূর্ণ করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শশাঙ্ক। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন রাহুল ত্রিপাঠি, যিনি মাত্র ১২ বলেই মূল্যবান ৩২ রান করেন।
এরপর খেলা যখন শেষের দিকে গড়ায়, তখন দলের জয় নিশ্চিত করতে উইকেটে ঝড় তোলেন রাহুল তেওয়াতিয়া ও নীতিশ রানা। তেওয়াতিয়া মাত্র ৫ বলে ১৬ রান এবং রানা ৪ বলে ১০ রানের ঝোড়ো ক্যামিও খেললে নির্ধারিত ৬ ওভার শেষ হওয়ার আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। তারা মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই তুলে নেয় জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৭ রান। বাংলাদেশের বোলারদের ব্যর্থতার ভিড়ে একমাত্র উইকেটের দেখা পান আহরার আমিন। দুর্দান্ত বোলিং ফিগারের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি নিজের করে নেন ভারতের অভিজ্ঞ ক্রুনাল পান্ডিয়া।
হতাশার চাদরে মোড়ানো টুর্নামেন্ট সমাপ্তি :
এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতেও ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করেও হারের স্বাদ নিতে হয়েছিল। ভারতের বিপক্ষে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে হংকং সিক্সেসের চলতি আসরটি বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি জয়শূন্য ও চরম হতাশার মধ্য দিয়ে ইতি টানল।
আমি দুঃখিত, স্কোরবোর্ডে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোর্স বা সূত্র যুক্ত করার জন্য। আপনার কথা মতো সোর্স বা তথ্যসূত্র অংশটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে শুধু পরিষ্কার সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ডটি নিচে দেওয়া হলো:
সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড
বাংলাদেশ ইনিংস: ১১৬/৫ (৬ ওভার)
-
আবু হায়দার রনি: ৬২* (১৮ বল, ৩টি চার, ৮টি ছক্কা)
-
হাবিবুর রহমান সোহান: ১৮ (৬ বল, ১টি চার, ২টি ছক্কা)
-
সাব্বির রহমান: ১৩ (৪ বল, ২টি ছক্কা)
-
রিজওয়ান চৌধুরী: ১২ (৫ বল, ২টি ছক্কা)
বোলিং (ভারত):
-
ক্রুনাল পান্ডিয়া: ২ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট
-
রাহুল ত্রিপাঠি: ১ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১ উইকেট
ভারত ইনিংস: ১১৭/১ (৬ ওভার)
-
শশাঙ্ক সিং: ৫০ (১৫ বল, ১টি চার, ৭টি ছক্কা – রিটায়ার্ড হার্ট)
-
রাহুল ত্রিপাঠি: ৩২ (১২ বল, ৩টি চার, ৩টি ছক্কা)
-
রাহুল তেওয়াতিয়া: ১৬* (৫ বল, ২টি চার, ১টি ছক্কা)
-
নীতিশ রানা: ১০* (৪ বল, ১টি ছক্কা)
বোলিং (বাংলাদেশ):
ম্যাচসেরা: ক্রুনাল পান্ডিয়া (ভারত)
সান নিউজ / রাজীব
