দেশে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে মহিষ খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ এমপি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত “মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে মহিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মহিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত জাত সংরক্ষণ এবং খামারিদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারলে দেশের দুধ ও মাংস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, চর অঞ্চলে চাষাবাদ তেমন হয় না, তাই চরে মহিষ চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে হবে। লবণ সহিষ্ণু ঘাস জন্মাতে হবে।
তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত হারিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার এই ছাগল আবার ফিরিয়ে এনে এর মাংস দেশের বাইরে রপ্তানি করবে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষির উন্নতি হলে দেশের উন্নতি হবে। খামারিদের সহযোগিতা চান মন্ত্রী। রিসার্চ নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। আগামীতে এই সরকার রিসার্চের উপরে আরো জোর দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, গবেষণার ফলাফল, মহিষের জাত উন্নয়ন, প্রজনন প্রযুক্তি এবং খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপস্থাপনা করা হয়। গবেষকরা জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে মহিষ পালনে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খামারিদের সক্ষমতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা, খামারি ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা, মহিষ খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া রাজশাহী থেকে কর্মশালায় অংশ নেওয়া মহিষের খামারিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান খান ভুঁইয়া।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প-এর প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব।
