রাজধানীর গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন দুই ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্রোক কার্যক্রম পরিচালনা করে দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) । জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শত শত কোট ও টাই, রোলেক্স ঘড়ি, মূল্যবান গয়না এবং বিভিন্ন ধরনের বিলাসবহুল গৃহস্থালি সামগ্রী।
সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডে নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ প্লটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ২৬৯ ধরনের পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে টিম। সংখ্যা হিসাবে যার পরিমাণ দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১১৩৫ ও ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০ পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তানজির আহমেদ বলেন, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে গতকাল ও আজ ইনভেন্টরি কাজ করেছে। অভিযানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরির কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার (পার্ল) গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, এসি, সিলিং ফ্যান, ট্রেড মিল, ফ্রিজ, সুটকেস, চেয়ার ও টেবিল ইত্যাদি। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটি ঘড়ির দাম হতে পারে দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
সাবেক মন্ত্রীর ফ্ল্যাটে বিলাসবহুল সম্পদের ছড়াছড়ি, যা পাওয়া গেল
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। টিম লিডারের বদলিজনিত কারণে টিম পুনর্গঠন হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯
সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচারক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান আসামি করা হয়েছে। যার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই আদালতের আদেশ দেওয়ার সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২টি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেয় দুদক।
এর আগে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে তার নামে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপ তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধান ও মামলার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আমার বাঙলা/তালহা
