চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার সাহেবপাড়া এলাকায় দিনদুপুরে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঢুকে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ (রোববার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ ঘটনা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে সাহেবপাড়ার শনি মন্দির গলিতে প্রবেশ করে কয়েকটি দোকানে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
পরে ইনুস মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় ঘরে থাকা নারী-পুরুষদের মারধর করা হয় এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপুরের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তার দাবি, কিছু সময় পর সদরঘাট থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ আসার পর হামলাকারীদের একটি অংশ একটি ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেয় এবং নিজেদের একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, একই সময়ে অন্যরা এলাকার ভেতরে অবস্থান করে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে যায়।
হামলায় নারী ও শিশুরাও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুমা আক্তার অভিযোগ করেন, হামলার সময় তিনি আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলায় অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি এবং তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, হামলার মতো ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
সদরঘাট থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
