লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী দিপালী বেগমের মরদেহ ফরিদপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।
মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ চরভদ্রাসনের শালেপুর গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে দিপালীর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা শেখ মোফাজেল, বড় ভাই শেখ ওবায়দুল্লাহ ও ছোট বোন লাইজু আক্তার।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী বেগম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিক হারিরি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে রাতেই মরদেহ নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছান। ভোর হওয়ার পর ট্রলারে করে চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাটে পৌঁছে লাশ। পরে সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে মরদেহ নেওয়া হয় পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেয়ের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দিপালী বেগমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আরও যা কিছু করার প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।
দিপালীর ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বোনের লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারছি, এটাই এখন বড় সান্ত্বনা।
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, দাফন খরচ বাবদ বিমানবন্দর থেকেই পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
পরিবার জানায়, সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দিপালী বেগমকে দাফন করা হবে।
সাননিউজ/আরএ
