আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের শাটলারদের সবচেয়ে বড় লড়াই—৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ। শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রতিযোগিতায় অবশ্য দেখা যাবে না গতবারের শিরোপাজয়ী তারকা খন্দকার আব্দুস সোয়াদকে। ইনজুরির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ আসর থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ও নারী শাটলারদের সমীকরণ : এবারের আসরে বিভিন্ন জেলা, বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা মিলিয়ে মোট ৮৮টি দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের সার্বিক পরিসংখ্যানে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো হলেও নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। প্রতিযোগিতায় যেখানে ৫৩৫ জন পুরুষ শাটলার অংশ নিচ্ছেন, সেখানে নারী প্রতিযোগীর সংখ্যা মাত্র ৮১ জন।
প্রাইজমানির বৈষম্য : অংশগ্রহণের মতো পুরস্কারের অঙ্কেও নারী ও পুরুষ শাটলারদের মাঝে স্পষ্ট বিভাজন বজায় রয়েছে। পুরুষ একক ও দ্বৈত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার এবং ১ লাখ টাকা পুরস্কার পেলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা নামিয়ে আনা হয়েছে যথাক্রমে ১ লাখ ও ৬০ হাজার টাকায়।
এ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এলিনা সুলতানা জানান, জাতীয় পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি সাধারণত একশোর কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে।
ব্যাডমিন্টনে অতীতে কোনো প্রাইজমানি না থাকলেও গত আসর থেকে বড় অংকের পুরস্কার চালু হয়েছে এবং এই ধারা বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নারী-পুরুষের পুরস্কারের পরিমাণে ব্যবধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এই ব্যবধান ঘুচে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইনডোরের পুরনো জটিলতা ও প্রস্তুতি : শহীদ তাজউদ্দিন ইনডোরে ব্যাডমিন্টন বা টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা মানেই বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল জানান, আলোর স্বল্পতার বিষয়টি গতকালই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সমাধান করেছে। তবে এসির সমস্যা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে একটি সেন্ট্রাল এসি সিস্টেমের বড় প্রয়োজন রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই সংকট দূর করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
বাজেট, স্পন্সর ও পুরস্কার নিয়ে আলোচনা : সব ইভেন্ট মিলিয়ে এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য রাখা হয়েছে একটি ইলেকট্রনিক বাইক।
খেলোয়াড়দের মাঝে বাইক বিতরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য, এটি সম্পূর্ণ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে প্রদান করা হচ্ছে। তবে বাইক চালানোর ক্ষেত্রে গতির উন্মাদনা ও দুর্ঘটনা এড়াতে ক্রীড়াবিদদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হবে।
এবারের আসরে বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা মিললেও খরচের মাত্রা বেশ চওড়া। শাটলার ও সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা প্রায় ছয়শ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি অতীতের যেকোনো আসরকে ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হচ্ছে খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়া এবং খেলায় ব্যবহৃত শাটল কক কেনার পেছনে, যার ফলে সামগ্রিক বাজেট অর্ধ কোটি টাকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে।
সান নিউজ / রাজীব
