রাজধানী ঢাকায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমর্থিত ক্যামেরার মাধ্যমে এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০০টি মামলা এবং ৩৮ হাজারেরও বেশি গাড়ির মালিককে সমন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের লেক রোড এলাকায় নতুন এআই ক্যামেরা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
১৯ ইন্টারসেকশনে সক্রিয় এআই ক্যামেরা
ডিএমপি কমিশনার জানান, আগে রাজধানীর ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু ছিল। নতুন করে আরও ৪টি সংযোজনের মাধ্যমে মোট ১৯টি পয়েন্টে এখন এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করছে।
তার ভাষায়,
“এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫০০টি মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার যানবাহনের মালিককে সমন পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ ভিন্ন হওয়ায় মোট আদায়ের হিসাব নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
শুধু এসএমএস নয়, ডাকযোগেও নোটিশ
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এআই ক্যামেরায় ধরা পড়া ট্রাফিক অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু মোবাইল এসএমএস নয়, বরং গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া ডিএমপির নির্ধারিত নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানোর পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ওয়েবসাইটেও এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
মালিকানা পরিবর্তন না হওয়ায় জটিলতা
গাড়ি বিক্রির পরও মালিকানা হালনাগাদ না করার কারণে অনেক নোটিশ পুরোনো মালিকের কাছে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার জানান, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ইতোমধ্যে ৩৮ হাজারের মতো সমন ইস্যু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে একসঙ্গে সব অটোরিকশা সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রযাত্রা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আইন প্রয়োগ আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
