পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সজল মৃধা (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সজল উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের মো. বাবুল মৃধার ছেলে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত যুবককে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তাঁর নানা বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে সজল তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কিশোরী নানাবাড়ির দোতলায় পড়াশোনা করছিল। এ সময় সজল বাইরে থেকে কিশোরীর মোবাইল ফোনে কল করেন এবং বসতঘরের দরজা খোলা পেয়ে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে দোতলায় উঠে যান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সজল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই রাতে এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা দোতলায় গিয়ে কিশোরীর সাথে সজলকে দেখতে পান। পরিবারের লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে সজল প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে সজল কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে কেটে পড়েন।
এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর নানি বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই রাঙ্গাবালী থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সজলকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি জানান, “মামলা দায়েরের পর পরই অভিযান চালিয়ে আসামি সজলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রোববার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষার পাশাপাশি ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার প্রক্রিয়াও নেওয়া হচ্ছে।
সান নিউজ/ রাব্বি
