গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখানো আর্জেন্টিনাকে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কেপ ভার্দে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে জয় পেলেও সহজে পথ পাড়ি দিতে হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একের পর এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অন্যদিকে, পরাজিত দলের গোলরক্ষক ভোজিনহাও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন।
মেসির বিশ্বকাপে ২০ গোলের অনন্য কীর্তি
এই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের ২০তম গোল পূর্ণ করেন লিওনেল মেসি। নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগ মিলিয়ে তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপে ২০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছালেন।
পেলে ও এমবাপেকে ছাড়িয়ে নকআউটে নতুন রেকর্ড
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত ১২টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি পেলে ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলেছেন।
টানা আট ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক আট ম্যাচে গোল করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মেসি। এর আগে কোনো ফুটবলার এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
দুই বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল
২০২২ ও ২০২৬—টানা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি। এদিকে এবারের আসরে ছয় গোল করা কিলিয়ান এমবাপে এই কীর্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
আর্জেন্টিনার রেকর্ডের দোরগোড়ায়
একটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী গুইলারমো স্তাবিলের আট গোলের রেকর্ড থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে আছেন মেসি। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার এক আসরে সর্বোচ্চ নয় গোলের রেকর্ডধারী আদেমিরের চেয়ে পিছিয়ে আছেন মাত্র দুই গোলে।
নকআউটে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও এখন মেসির। এর আগে এই বিরল অর্জন ছিল শুধু হাঙ্গেরির জর্জি সারোসি ও ব্রাজিলের ভাভার।
শেষ ছয় নকআউটে ১০ গোলে অবদান
বিশ্বকাপের শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে সরাসরি ১০টি গোলে ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এই সময়ে তিনি করেছেন ৬ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪ গোল।
৩৫ বছরের পরও অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা
৩৫ বছর বয়স অতিক্রম করার পর বিশ্বকাপে ১৪ গোল করেছেন মেসি। এই বয়সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল ক্যামেরুনের রজার মিলারের, যার সংখ্যা মাত্র পাঁচ।
২২ প্রতিপক্ষের মধ্যে ১৪ দলের বিপক্ষে গোল
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে ১৪ দলের জাল খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ নকআউটে তৃতীয় প্রবীণতম গোলদাতা
৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে নকআউট পর্বে গোল করে ইতিহাসের তৃতীয় প্রবীণতম গোলদাতা হয়েছেন মেসি। এই তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং পেপে।
লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বিরল অর্জন
১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে এক বিশ্বকাপ ম্যাচে একই সঙ্গে গোল ও অ্যাসিস্ট করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।
বিশ্বকাপে মেসির ৩০তম ম্যাচ
কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেললেন মেসি। পুরুষ ফুটবলে এই মাইলফলকে পৌঁছানো প্রথম খেলোয়াড় তিনিই। এছাড়া এটি ছিল বিশ্বকাপ নকআউটে তার ১৩তম ম্যাচ, যেখানে তার সামনে রয়েছেন শুধু মিরোস্লাভ ক্লোসা।
কেপ ভার্দের ইতিহাসে দুয়ার্তের নাম
কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোলের রেকর্ড গড়েছেন দেরয় দুয়ার্তে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউটে গোল করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলারও তিনি।
স্কালোনির শততম ম্যাচে জয়
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচে দলের ডাগআউটে ছিলেন লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে এটি আর্জেন্টিনার ৭২তম জয়। পাশাপাশি রয়েছে ১৮টি ড্র এবং ৯টি পরাজয়।
পরাজিত হয়েও আলোচনায় ভোজিনহা
কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি মোট আটটি সেভ করেন, যার মধ্যে পাঁচটিই ছিল মেসির শট থেকে। বিশ্বকাপ নকআউটে কোনো আফ্রিকান গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে তার মোট সেভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
আরও দুটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
- এবারের বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে গোলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩, যা ১৯৬৬ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ।
- অতিরিক্ত সময়ে জিতে বিশ্বকাপে ১২টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডে জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা।
