নানান রোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে অনেকটাই কঠিন। সেই বাস্তবতায় তাদের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে আয়োজিত চার ধাপের এ মেডিকেল ক্যাম্পে ২০ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখা ও ক্যাম্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, ‘সবার জন্য, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যাম্পে গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) চতুর্থ ধাপের শেষ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম ধাপে রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে, দ্বিতীয় ধাপে বাপ্তা, কাচিয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নে এবং তৃতীয় ধাপে আলীনগর, দক্ষিণ দিঘলদী ও উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থ ধাপে চরসামাইয়া, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
চরসামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা চার সন্তানের মা ইয়াছনুর বেগম ও তার প্রতিবেশী লাইজু বলেন, তাদের স্বামীরা দিনমজুর। একদিন কাজ না করলে সংসারে খাবারের সংকট তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগলেও অর্থের অভাবে ভোলা বা বরিশালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তারা বলেন, বাড়ির কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার খবর পেয়ে ক্যাম্পে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছেন। এতে তাদের অনেক উপকার হয়েছে।
ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট কো-অপারেটিভ স্কুল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ রফিউদ্দিন, সামসুল হক ও মোফাজ্জল বলেন, বয়সের কারণে তারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শহরে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। বাড়ির কাছে ক্যাম্প হওয়ায় তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন।
চরসামাইয়া ইউনিয়ন বিজেপির সদস্য সচিব মামুন মুন্সি বলেন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটি এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। দিনব্যাপী ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। বিজেপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভোলা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরনবী বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর মতোই সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন। প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষ যাতে সহজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যেই এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর উদ্যোগে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে চার ধাপে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রথম ধাপের ক্যাম্প শেষ হয়েছে। শিগগিরই ইউনিয়নগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী এলাকার সব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
সান নিউজ/ রাব্বি
