রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষকে আর ভূমিসেবা নিতে অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না কিংবা দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হবে না।
তিনি জানান, বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে খাজনা পরিশোধ, ই-নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা গ্রহণ করা যাচ্ছে এবং সারা দেশের ৬১ জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে বিচারাধীন ৪৭ লাখের বেশি মামলার বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। তাই প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। অনুষ্ঠানে তিনি ভূমি প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল ও সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের সঙ্গে প্রায় ১৮ মিনিট সময় কাটান। সেখানে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটা, গল্প করা ও উপহার বিতরণের প্রাণবন্ত মুহূর্ত অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভূমির মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস কিংবা ডি-এস- এসব বিষয়ের সঙ্গে জমির মালিকরা পরিচিত। আগে এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য মানুষকে ভূমি অফিসে যেতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সেবাগ্রহীতারা ঘরে বসেই অনলাইনে জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। আর যারা নিজেরা অনলাইনে খাজনা পরিশোধ বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় দেশের ৬১টি জেলায় বর্তমানে ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে নাগরিকরা সহজেই ভূমিসেবার আবেদন ও সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত সহজ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অনলাইনভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনার ফলে জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমবে এবং ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে চলমান ভূমিমেলা জনগণকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ বাস্তবতায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সময়ের অপরিহার্য দাবি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতে কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে সহজ করার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ ছিল।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে তিন দিনব্যাপী এ ধরনের ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে।’
সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতি এগিয়ে নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনে পিষ্ট দেশের জনগণ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার শুরু থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, সারা দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪৭ লাখের বেশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, যার বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। তাই আদালতের বাইরে গ্রাম আদালত ও এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) মতো আইনানুগ পদ্ধতির ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে, অপরদিকে অনেক্ষত্রেই বিরোধ হয়তো শত্রুতায় রূপ নেবে না।
আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শক্তি দিয়ে নয়, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’ তিনি বলেন, আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশ ও সমঝোতার মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যকর করা গেলে আদালতের মামলার জট কমবে এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিও সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি শুধু একটুকরো সম্পদ নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় শুরু হওয়া ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘একটি ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’
এরপর বোতাম টিপে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকাশনার মোড়কও উন্মোচন করেন তিনি।
উদ্বোধনের পর একযোগে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় মেলা শুরু হয়। আগামী ২১ মে পর্যন্ত এ মেলা চলবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘জনবান্ধব স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।
নাগরিকদের নতুন ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে পরিচিত করা এবং কিছু সেবা সরাসরি মেলা প্রাঙ্গণে প্রদান করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল ও সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে কল সেন্টার, নাগরিক সেবাকেন্দ্র ও ডে-কেয়ার সেন্টারও ঘুরে দেখেন।
সহজীকৃত ভূমিসেবা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিকসেবা সম্পর্কে বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, অনলাইনে ই-নামজারির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিআরসি সংগ্রহ এবং মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণেই তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ই-নামজারির আবেদন গ্রহণ, খতিয়ানের সত্যায়িত অনুলিপি বিতরণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ।
মেলায় ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ এবং বিভাগীয় হটলাইন ০১৭০৬৮৮৮৭৮৭ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ভূমিসেবা তুলে ধরতে ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক একটি বইও বিতরণ করা হচ্ছে।
শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ১৮ মিনিট: ডে-কেয়ার সেন্টারজুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর চিৎকার। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল। এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে।
এ সময় তিনি যেন ফিরে যান সেই নির্ভার শৈশবে, যেখানে ছিল কেবল অকারণে হাসি আর আনন্দে ভরা দিন।
‘ভূমিসেবা মেলা’র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী ভবনের নিচতলায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ ঘুরে দেখেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রবেশের পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকার প্রধান তারেক রহমান। মুহূর্তে তাকে ঘিরে ধরেন ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে। কয়েকজন নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন, মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন। কখনো আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনো তাদের কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে। শিশুদের কেউ প্রধানমন্ত্রীকে ‘আঙ্কেল’ বলে ডাকছিল, কেউ আবার ‘মামা’ বলে কাছে এসে গল্প জুড়ে দিচ্ছিল। অবুঝ মনের সেই অকৃত্রিম টান আর উচ্ছ্বাসে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর মনেও ভেসে উঠছিল নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর ছবি। শৈশবের ছুটে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে দুরন্তপনা, অবুঝ মনের ছোট ছোট আবদার- সব স্মৃতিই যেন ফিরে আসছিল শিশুদের নিষ্পাপ হাসির ভিতর দিয়ে।
এক পর্যায়ে আয়োজন করা হয় কেক কাটার। কেক ঘিরে শিশুদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে দাঁড়ায় ছোট্ট মুখগুলো। প্রধানমন্ত্রী কেক দেখিয়ে বলেন, ‘আজকে কার জন্ম দিন বলো তো? শিশুদের কয়েকজন বলে উঠে, ‘আঙ্কেল আমার, আঙ্কেল আমার’। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, আজ তোমাদের সবার জন্মদিন।
পরে শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী। যখন কেক কাটা হচ্ছিল তখন শিশুরা আনন্দে বলছিলো, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে। এ সময় শিশুরা নিজের হাতে কেক তুলে দেয় প্রধানমন্ত্রীর মুখে, আবার প্রধানমন্ত্রীও স্নেহভরে কেক খাইয়ে দেন শিশুদের। তিনি শিশুদের নিজ হাতে দিয়েছেন বিভিন্ন রকমের চকলেট, টফি, ললিপপ, দিয়েছেন গিফট ব্যাগও। পুরো দৃশ্যটিতে ছিল মায়া, ছিল আন্তরিকতা, ছিল নিখাদ ভালোবাসার প্রকাশ।
কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান। শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসার ভিতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতা।
ডে কেয়ার সেন্টারের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকার প্রধানকে ব্রিফ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সংশ্লিষ্টরা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
সাননিউজ/আরএ
