নতুন করে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অন্তত একটি ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তবে মোট কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা গেছে, তা স্পষ্ট করেনি জেসিএস। খবর আল জাজিরার।
জাপানের কোস্টগার্ডজানায়, উত্তর কোরিয়া দুটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ উৎক্ষেপণ করেছে, যেগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেগুলো সাগরে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের বারবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
জেসিএস-এর মুখপাত্র জং দো-ইয়ং জানান, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়ার সদ্য অনুষ্ঠিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দেশটির প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনও প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে এমন অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ঘটনা বেশ বিরল।
প্রেসিডেন্ট লির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, হাইপারসনিক অস্ত্রটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে তা কোরীয় উপদ্বীপের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আকস্মিক হামলা চালানোর সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি হাইপারসনিক মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। সেটি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করেছে তারা।
গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যবর্তী ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্ষমার দাবি জানায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের একটি যৌথ তদন্তে উঠে আসে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী ওই দুটি ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল।
তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ তোলে পিয়ংইয়ং।
সাননিউজ/বান্না
