বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে সম্মতিমূলক শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অবৈধ হবে না এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ সংযোজিত সংশ্লিষ্ট ধারা কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
সংশোধিত আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন এবং ওই সময় তার সঙ্গে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
মঙ্গলবার বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে একই বিষয়ে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। মঙ্গলবার সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আগে ধর্ষণসংক্রান্ত অপরাধের বিচার হতো দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার আওতায়। তবে গত কয়েক বছরে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ শিরোনামে মামলা দায়েরের প্রবণতা বেড়েছে। নতুন সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পর সেই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আইনটি কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন।
আমার বাঙলা/ তালহা
