দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও লোডশেডিং কমেনি, উল্টো বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করায় বাড়ছে ভর্তুকি এবং যুক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিলের চাপ। এই সংকট সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহ সরকারের হাতে থাকলেও খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়া হতে পারে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও রয়েছে বলে তিনি জানান। তার যুক্তি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পেলে দক্ষতা ও বিল আদায় বাড়বে, যা ভর্তুকির বোঝা কমাতে সহায়ক হবে; উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের মুম্বাই ও দিল্লির মডেলের কথা তুলে ধরেন।
তবে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপে সন্দিহান। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ঠিক না করে বেসরকারিকরণ করলে গ্রাহকের ব্যয় আরও বাড়বে, এবং এলপিজি খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পুরোপুরি বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এই খাতে দাম নিয়ন্ত্রণ কখনোই সম্ভব হয়নি। বুয়েটের অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরীও একই মত পোষণ করে বলেন, প্রাইভেটে গেলেই বড় পরিবর্তন আসবে এমনটা নিশ্চিত নয়, এবং ব্যাংক খাতের লুটপাটের উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বেসরকারি কোম্পানি একচেটিয়া দায়িত্ব পেলে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে, দুর্গম এলাকায় বিনিয়োগে অনীহা দেখা দিতে পারে এবং বিদ্যমান কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তারা মনে করেন, বেসরকারিকরণের আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) শক্তিশালী করাই সবচেয়ে জরুরি, নয়তো তেলের মতো বিদ্যুতের দামও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, বিষয়টি এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বরং কীভাবে এটিকে যৌক্তিকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে সরকার এখনো ভাবছে ও পর্যালোচনা করছে।
আমার বাঙলা/ তালহা
