মঙ্গলবার (১৬ জুন) পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মাসব্যাপী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এই হামলায় একজন নিহত হয়েছে।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে সামরিক বাহিনীর ইউ.এস. সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে যে তারা পরিচিত চোরাচালান রুট ধরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
তবে নৌযানটিতে আসলেই মাদক পরিবহণ করা হচ্ছিল কিনা, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি নৌযান পানিতে চলার সময় হামলার শিকার হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে এটি আগুনে জ্বলে ওঠে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার কার্টেলগুলোর সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে এবং আমেরিকানদের জীবন কেড়ে নেওয়া মারাত্মক ওভারডোজ (অতিরিক্ত মাদক সেবন) ঠেকাতে এই হামলাকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি সমর্থন করেছেন।
তবে ‘নার্কোটেররিস্ট’ হত্যার দাবির পক্ষে তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত খুব সামান্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে পেরেছে।
এই হামলাগুলো কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা এবং সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম হামলাটি আইনপ্রণেতা এবং সামরিক আইন গবেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
সেই প্রথম হামলায় নয়জন নিহত হলেও দুইজন ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে বেঁচে যান এবং তারা নৌকার ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে ভাসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে আবারও দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়, যার ফলে তারা মারা যান। হোয়াইট হাউস এই দ্বিতীয় হামলার কথা স্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছে, এটি ‘আত্মরক্ষার্থে’ এবং নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই করা হয়েছিল।
সান নিউজ/ জামান
