দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার চারটি নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। জেলার জুড়ী নদে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদীতেও পানি বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদী-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আশপাশের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় তলিয়ে গেছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি। একইভাবে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।
কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পানিবন্দি কাওছার আহমেদ ও নজরুল আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আমাদের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাড়িতে পানি উঠে গেছে। আমাদের বোরো ধান সব তলিয়ে গেছে। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সবমিলিয়ে মহা কষ্টের মধ্যে আছি।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখছি। নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে অতি বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।
