পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, বান্নু এবং ওয়াজিরিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে পর্যায়ক্রমে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এই লংমার্চটি কারাক, কোহাট, হাঙ্গু, পেশোয়ার এবং চরসদ্দা সহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পয়েন্ট অতিক্রম করে খাইরাবাদে গিয়ে প্রথম ধাপের সমাপ্তি টানার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও মিছিল এসে এই মূল বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। সন্ত্রাস দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যথাযথ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এই লংমার্চকে কোনোভাবেই রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই রাজধানী ইসলামাবাদে রেঞ্জার্স সদস্য মোতায়েনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার নিরাপত্তা কর্মী রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কনটেইনার বসিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিটিআই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে লংমার্চ প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হলেও দলটির নীতিনির্ধারকরা তা মানতে নারাজ। খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর এই বহর নিয়ে রাজধানী অভিমুখে যাত্রার ঘোষণায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সান নিউজ/রাজীব
