পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার মুখে পড়ে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন হাতছাড়া হয় দলটির। দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এদিকে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে রাজ্যজুড়ে বইতে থাকা এই গেরুয়া ঝড়ের কবলে পড়ে ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে টলিউডের একঝাঁক তারকার।
সোমবার (৪ মে) নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হেভিওয়েট তারকা প্রার্থীদের কেউ কেউ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন, আবার কারও গলায় উঠেছে বিজয়ের মালা।
এবারের নির্বাচনে একাধিক ‘নিশ্চিত’ কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। বিশেষ করে নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী সোমবার সর্বশেষ রাউন্ডের গণনা শেষে পরাজিত হয়েছেন। তাকে ১০ হাজার ১৮৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।
যদিও গণনার শুরুর দিকে সোহম এগিয়ে ছিলেন, তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমে তিনি হারের মুখ দেখেন।
অন্যদিকে বরানগর কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। এই কেন্দ্রে ২৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে শুরু থেকেই সবার কড়া নজর ছিল।
বিজেপির তারকা প্রার্থীদের মধ্যে বড় জয় পেয়েছেন অভিনেতা হিরণ চ্যাটার্জী। হাওড়ার শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানাকে ২২ হাজার ২৬০ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপি তাকে খড়গপুর সদরের পরিবর্তে শ্যামপুরে প্রার্থী করেছিল। একই ধারায় শিবপুর কেন্দ্রে বড় জয় পেয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
সোমবার সকাল থেকেই সেখানে পদ্ম-ঝড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম তিন-চার রাউন্ডের গণনায় রুদ্রনীল কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ২৯৪। ১৭ রাউন্ড শেষে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
তবে রাজনীতির মাঠে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সিনেমার পর্দায় হিট হলেও ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে লড়ে বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে ১৫৮২২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন এই তারকা পরিচালক। এর মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে দ্বিতীয়বারের মতো হারের স্বাদ পেলেন তিনি।
রাসবিহারী আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে গেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন তিনি। রাসবিহারী কেন্দ্র মানেই অভিজাত, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির বসতি।
বিজেপির প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের কাছে ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে হেরেছেন শ্রেয়া পাণ্ডে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক শ্রেয়ার বাবা সাধন পাণ্ডে মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। এ বারের নির্বাচনে কন্যা শ্রেয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল।
তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। শশী পাঁজা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার পুত্রবধূ।
বেহালা পশ্চিম আসন থেকে এবার তৃণমূলের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৪ হাজার ৬৯৯ ভোটে তিনি বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ’র কাছে হেরেছেন। এর আগে ২০২১ সালে ওই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন রত্না।
সাননিউজ/আরএ
