নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ সন্তান জন্মের পর এক নবজাতকের সন্ধান না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের এক ওয়ার্ড বয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার জিহাদ হোসেন আত্রাই উপজেলার মনিয়ারি ইউনিয়নের মুসকিপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)। ওই দিন নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ সন্তান জন্ম দেন শান্তনা আক্তার। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর তাদের হাতে একটি কন্যাশিশু তুলে দেওয়া হলেও অপর নবজাতকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নবজাতকদের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই তাঁর গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ ছিল। এমনকি দুটি ভ্রূণের হৃদস্পন্দন ও সম্ভাব্য ওজনও পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়।
শান্ত ইসলামের দাবি, চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
নবজাতকের মা শান্তনা আক্তারের অভিযোগ, সিজারের আগে তাঁকে যমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর একটি শিশুকে দেখানো হলে তিনি অপর শিশুর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাঁর অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। বিষয়টি মেনে না নিলে তাঁকে ওই অবস্থায় রেখে দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন নবজাতকদের বাবা শান্ত ইসলাম।
তবে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, রোগী চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি নাকি দুটি হয়েছে, সে বিষয়ে ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কিছু জানা নেই।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলা রুজুর পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ নবজাতকের সন্ধান বের করা এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সাননিউজ/বান্না
