কয়েক বছর ধরে জন্মদিনে ঢাকায় থাকেন না সব্যসাচী লেখক মজিদ মাহমুদ। ঈশ্বরদী চরে নিজের প্রতিষ্ঠিত চরনিকেতন শিক্ষাপল্লিতে সময় কাটান তিনি। তিন দিনব্যাপী বৈশাখী অনুষ্ঠানে ঢাকার শুভার্থীদের কেউ কেউ সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন। সঙ্গে থাকেন উত্তরবঙ্গের মানুষ আর সারাদেশের কবি-সাহিত্যিক। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, ওল্ড হোম, রেস্ট হাউজ ইত্যাদি। ঢাকার বাইরে দেশের সবচে বড় সাহিত্য সম্মেলনও এখন অনুষ্ঠিত হয় পাবনার চরনিকেতনে।
৩ বৈশাখ (১৬ এপ্রিল) ছিল লেখক মজিদ মাহমুদের জন্মদিন। ষাট পেরিয়ে ৬১-তে পা রাখলেন এবার। জন্মদিনোত্তর এক প্রীতি সম্মিলনির আয়োজন করেছিলেন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার বন্ধু ও শুভার্থীরা। ধানমণ্ডি ক্লাবের মাল্টিপারপাস হলে বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা থেকে প্রিয়জনদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন তিনি।
এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৮০। মাহফুজামঙ্গল, বল উপাখ্যান, আপেল কাহিনী, গোষ্ঠের দিকে, তুমি শুনিতে চেয়ো না, নজরুল: তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র, কাটা পড়া মানুষ, মেমোরিলায় ক্লাব প্রর্ভতি গ্রন্থ পাঠকের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ হয়েছে। মাহফুজামঙ্গলের কবি, নজরুল গবেষক, প্রাবন্ধিক ইত্যাদি পরিচয় ছাপিয়ে তিনি পরিচিত এখন ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে।
প্রীতি সম্মিলনির আয়োজক আনন্দ আড্ডা, সুজন, প্রকৃতি, প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীত, সমধারা ও ত্রিলোক। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, কবি আসাদ মান্নান, নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, ড. মাহবুব হাসান, কবি কুমার চক্রবর্তী, কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, শিশু সাহিত্যিক রহিম শাহ, পাবনা প্রসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুব আলম, কবি রোকেয়া ইসলাম, কবি তাহমিনা কোরাইশি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বিএম জামাল হোসেন, কথাসাহিত্যিক সমীর আহমদ, ড. কুদরত-ই হুদা, ইউরোপ প্রবাসীদের সংগঠন আয়েবার সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন ফকির, কণ্ঠশিল্পী পারভীন সুলতানা, নাজমা মান্নান, নজরুল গবেষক রাজীবুল হাসান, প্রাবন্ধিক ড. আবদুর রউফ, নূর কামরুননাহার, কবি অরবিন্দ চক্রবর্তী, শিল্পী শিশির মল্লিক, ড, সোহানুজ্জামান, কবি সৈকত হাবিব, কণ্ঠশিল্পী কবি হাসান মাহমুদ, কবি ফারহান ইশরাক, কবি ইকতিজা আহসান, ড. জিনাত জাহান সেঁজুতি, শিল্পী জন সুমিত, শিল্পী মাজহারুল ইসলাম, বাচিকশিল্পী মাসুম আজিজুল বাশার, জাকির মোল্লা, কবি জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি সম্পাদক কাজী আনিসুল হকসহ শতাধিক কবিসাহিত্যিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবি সাহিত্যিক বহুমাত্রিক মজিদ মাহমুদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রস্তাব রাখেন কবি মজিদ মাহমুদের সামগ্রিক সাহিত্য নিয়ে একটি মূল্যায়ন হওয়া দরকার।
হাবিবুর রহমান হাবিব এবং কবি আসাদ মান্নান বলেন, এবার আমরা দেখতে চাই, ‘মজিদ মাহমুদ চরনিকেতনকে খুব শিগগিরই একটি সাংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমরা তার সঙ্গে আছি।’
সাননিউজ/আরএ
