দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, দেশকে হৃদয়ে ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, এখানে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু বলে আলাদা কোনো পরিচয় নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। বিএনপির আদর্শও হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন এবং সরকার তাদের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে এবারও গুরুত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের দ্বারা দেশ থেকে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। তবে সবাই সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে মাদকমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জেলা থেকেই মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে সারা দেশে মাদক নির্মূলের প্রচেষ্টা চালাতে চান তারা। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজ দলের কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে দলের নেতারাও সোচ্চার রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সান নিউজ/ রাব্বি
