দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত তিন মাসে হাম ও এর উপসর্গে ৬৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশে আরও ১ হাজার ১৪৮ শিশু হাম বা উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে মোট মৃত্যুর মধ্যে ৫৭৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৯৩ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৯০৪ জনে। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ জনের মধ্যে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৬৭৭ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে দুই শিশু, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে।
একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০৭ জন, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৩১ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন এবং বরিশালে ১৩৫ জন রোগী রয়েছে। এ সময়ে ৮১৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গত ৯৫ দিনে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৪ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন রোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
