দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তরুণদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তাদের কীভাবে দেশের কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা যায়, সেটিই সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনীতিতে সব বিষয়কে জড়িয়ে না ফেলে বাস্তবভিত্তিক কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতির চর্চা রাজপথের পরিবর্তে সংসদকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন সেই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের প্রকৃত অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা। আর এই দেশ নির্মাণের কাজে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বেকারত্বের হতাশাকে মাদকাসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং হতাশা থেকে বের করে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় সমাজের সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সমাজের নেতিবাচক দিক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে এসব অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে হবে।
সান নিউজ/ রাব্বি
