ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের মধ্যেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে মুক্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। সেই ফোনালাপের অডিও বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান। অভিযানে ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলনকে আটক করা হয়। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করতেন। দোকানটিকে কেন্দ্র করে তিনি ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন। জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ নানা সেবার নামে নিয়মিত উপজেলা ভূমি অফিস ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি কার্যক্রম বন্ধ করেননি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন তাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তাকে একবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনের বাইরে কোনো সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, তিনি বিষয়টি এমপিকে জানাবেন।
এ বিষয়ে আব্দুল জলিল বলেন, দলের একজন নেতার বিষয়ে জানতে পেরে তিনি ফোন করেছিলেন। পরে বিস্তারিত তথ্য জানার পর আর কোনো সুপারিশ করেননি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেছেন।
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের নীতিমালার পরিপন্থি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে দালালির কার্যক্রমের একাধিক ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এছাড়া তিনি যে সেবাগুলো দিতেন, সেগুলোর মূল্যতালিকাও প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেননি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ
