যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী মূল্য নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেট্রোল বিক্রেতাদের অবিলম্বে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন, এই আহ্বান উপেক্ষা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জ্বালানির দাম কমাতে আর কোনো বিলম্ব বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রতি গ্যালন পেট্রোলের মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৫০ ডলার পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
‘আমেরিকান জনগণের স্বার্থে দাম কমান’
ট্রাম্প তার বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জ্বালানি বিক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং জনগণকে স্বস্তি দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পরও অনেক ক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে সেই সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন না।
ক্যালিফোর্নিয়ার করনীতিরও সমালোচনা
জ্বালানির মূল্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার করব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তার দাবি, রাজ্যটিতে পেট্রোলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে জ্বালানির প্রকৃত দামের চেয়েও করের পরিমাণ বেশি হয়ে যেতে পারে। এই নীতি পরিবর্তনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বড় তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় তেল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনলেও সেই অনুপাতে পাম্পে বিক্রয়মূল্য কমানো হচ্ছে না।
তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে (ডিওজে) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
ইরান সংকটের পর বেড়েছে জ্বালানির দাম
সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, অতীতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করার জন্য জরুরি ক্ষমতাও ব্যবহার করেছে সরকার।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্য এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে।
ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা কমে এলে জ্বালানির দামও দ্রুত হ্রাস পাবে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মূল্য দ্রুত কমার সম্ভাবনা সীমিত।
