এক ঝলক
|
দিক
|
বর্তমান পরিস্থিতি ও চিত্র
|
|
টুর্নামেন্টের শুরু
|
আজ পর্দা উঠছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের
|
|
উদ্বোধনী দিনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ
|
• দুপুর সাড়ে ৩টা: ভারত বনাম পাকিস্তান (চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই)
• দ্বিতীয় ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ভুটান (স্বাগতিকদের ম্যাচ)
|
|
স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা
|
জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি লাল ও ধূসর রঙের খালি চেয়ারে পূর্ণ; প্রবেশপথে নেই কোনো চিরচেনা ভিড় বা উন্মাদনা
|
|
দর্শকহীনতার মূল কারণ
|
সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় সাধারণ দর্শক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং স্টেডিয়ামে অনীহা
|
|
সমর্থকদের আশঙ্কা
|
টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের স্টেডিয়াম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না—সেই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে
|
|
সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি/ঘাটতি
|
মাঠ প্রস্তুত থাকলেও ফুটবলের আসল প্রাণ ‘দর্শক’ এর চরম অনুপস্থিতি পুরো আয়োজনকে ফিকে করে দিয়েছে
|
উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর এক টুর্নামেন্টের পর্দা ওঠার কথা থাকলেও উদ্বোধনী দিনেই অদ্ভুত এক নীরবতায় ঢেকে গেছে দেশের প্রধান ফুটবল স্টেডিয়াম। মাঠের সবুজ গালিচা, সাজানো ডাগআউট আর চকচকে ফ্লাডলাইট প্রস্তুত থাকলেও সেখানে অনুপস্থিত সবচেয়ে বড় উপাদান—দর্শক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান মহারণ কিংবা স্বাগতিক বাংলাদেশের ম্যাচ—কোনো কিছুতেই যেন স্টেডিয়ামে পা পড়ছে না ফুটবলপ্রেমীদের। চারপাশের এমন সুনসান নীরবতা আর হাজার হাজার খালি চেয়ার ফুটিয়ে তুলছে এক কঠিন বাস্তবতাকে।
মহারণের উত্তাপ উধাও, গ্যালারিজুড়ে শূন্যতার হাহাকার :
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে বিকেল সাড়ে তিনটায় ভারত ও পাকিস্তানের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই দেখার জন্য যেখানে কানায় কানায় পূর্ণ থাকার কথা স্টেডিয়াম, সেখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রবেশপথগুলোতে নেই চেনা সেই উপচে পড়া ভিড়, নেই সমর্থকদের কোনো আনন্দমিছিল বা হর্ষধ্বনি।
গ্যালারির লাল ও ধূসর রঙের চেয়ারগুলো দীর্ঘশ্বাস ফেলছে যেন দর্শকের অভাবে। অথচ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তো বাড়তি উন্মাদনা ও শিহরণ। কিন্তু উদ্বোধনী দিনে সেই চিরচেনা উন্মাদনার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া গেল না স্টেডিয়াম চত্বরে।
টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, ফুটবলপ্রেমীদের স্টেডিয়াম থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার কৌশল :
ফুটবলপিপাসু সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এই হতাশার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে টিকিটের চড়া মূল্যকে। সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সমর্থকদের মনে চরম ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল।
সাধারণ দর্শক ও বিভিন্ন সাপোর্টার গ্রুপ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, এত বেশি মূল্য দিয়ে টিকিট কেনা নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত বা সাধারণ ছাত্রদের মতো ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষে অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় স্টেডিয়ামের দরজা থেকেই ফিরে গেছেন হাজারো সমর্থক। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আকাশছোঁয়া দাম কি তবে পরিকল্পিতভাবেই গ্যালারি থেকে আসল প্রাণ—অর্থাৎ দর্শকদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে?
বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ, গ্যালারির চিত্র কি বদলাবে :
দিনের দ্বিতীয় হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কোচ থমাস ডুলির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ভুটান। স্বাগতিক দল মাঠে নামলে হয়তো গ্যালারির এই বিবর্ণ চিত্র খানিকটা হলেও বদলাবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টিকিটের অগ্নিমূল্যের বাধা পেরিয়ে সাধারণ দর্শকরা শেষ পর্যন্ত গ্যালারিতে এসে প্রিয় দলকে সমর্থন জোগাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও রয়েছে বড় সংশয়।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামলেও ফাঁকা গ্যালারির দিকে তাকালে সাফ ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে দর্শকের বড় বেশি অনুপস্থিতিই বারবার চোখে পড়ছে।
সান নিউজ / রাজীব
